info@janatamcs.com (880) 19129 61611
জনতা পিকনিক কর্নার

অফিস-কাজ-সংসারের যাবতীয় ঝক্কি ফেলে নির্ভেজাল আড্ডার সঙ্গে কব্জি ডুবিয়ে রসনাতৃপ্তি আর ডায়েট ভুলে উদরপূর্তিতে নিজেকে নিমজ্জিত করা—এই তো পিকনিকের প্রাপ্তি।

চারদিকে সবুজ বনরাজি আর লেকভিউ সমৃদ্ধ মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে ওঠা জনতা পিকনিক কর্নার। নাগরিক কোলাহলের এত কাছে খোলামেলা এমন একটি জায়গা যে আছে, তা বাইরে থেকে বোঝাই মুশকিল। যেখানে প্রবেশ করতেই সুবিশাল পুকুর আপনাকে স্বাগত জানাবে। পুকুর পাড়ে রয়েছে সবুজের ছায়া মাখানো মেঠো পথ এবং বিশাল উম্মুক্ত স্থান। স্টেজ বানিয়ে সুন্দরভাবে পরিপাটি প্রোগ্রাম করার জন্য সব ধরনের সুযোগ সুবিধাও রয়েছে স্পটে। আপনি জরুরি সভা, মিটিংসহ অফিসিয়াল নানান ধরনের কনফারেন্স এই স্পটটিতে সেরে নিতে পারেন। এখানে আছে এক্সিকিউটিভ মিটিং-এর জন্য ১টি কনফারেন্স রুম, পিকনিকের ফাঁকে জিরিয়ে নিতে ১টি ভিআইপি রেস্ট রুমসহ আনন্দদায়ক ভ্রমণের সব ব্যবস্থা।

এছাড়াও স্পটটিতে আরো রয়েছে নানান সুবিধা। নির্দিষ্ট অঙ্কের ফি দিয়ে লেকের পানিতে নৌকায় ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ, খেলাধুলা এবং অন্যান্য রকমারি সুবিধা। একসঙ্গে পাঁচ হাজার লোকের সেবা প্রদানে সক্ষম এটি। সব মিলিয়ে সারা দিন কাটানোর জন্য জায়গাটি দারুণ। তাই নিশ্চিন্তে নিভৃতে এখান থেকে প্রাণভরা অক্সিজেন নিয়ে ফিরতে পারেন।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত বিনোদন প্রিয় মানুষের কলকন্ঠে এ পিকনিট স্পট সবসময় মুখরিত থাকে। সারা বছর জনতা পিকনিক স্পটে বিনোদন প্রিয় মানুষের কমবেশি আনাগোনা থাকলেও শীত মৌসুমে পর্যাটকদের সংখ্যা বেড়ে যায়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মন্ডিত এ পিকনিক স্পটে প্রতিদিন দুর দুরান্ত থেকে বাস, মিনিবাস, কার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, ট্যাম্পু, ভ্যান ও বাইসাইকেলে চড়ে অসংখ্য নারী-পুরুষ ও শিশু আসছে। এ যেন বিভিন্ন বয়সের মানুষের এক মিলনস্থল।

জনতা পিকনিক কর্নারে যা কিছু আছে:

জনতা পিকনিক কর্নার একদিকে যেমন প্রাকৃতিক সৈন্দর্য মন্ডিত অন্যদিকে সাজানো হয়েছে চড়ুইভাতি ও বিনোদনের উপায় উপকরণ দ্বারা। এখানে রয়েছে ভিআইপি রুম, সেমিনার রুম এবং বিশ্রাম সুবিধার জন্য বহু সবুজের ছায়া ঘেরা বেঞ্চি।


শিশুদের বিনোদন:

শিশুদের বিনোদনের জন্য এই স্পটে রয়েছে কয়েকটি আয়োজন। শিশু ও কিশোরদের বিনোদনের জন্য রয়েছে দোলনা। দোলনায় দুলে মানব শিশু বড় হতো এক সময়। সময়ের বিবর্তনে এই দোলনা হারিয়ে গেছে। এখন তা শুধু হয়ে আছে গল্পের মতো। শিশুকে এই দোলনায় চড়িয়ে বেড়িয়ে আসতে পারেন।


সংরক্ষিত ফুলের বাগান:

জনতা পিকনিক কর্নারে রয়েছে সংরক্ষিত ফুলের বাগান। এ বাগানটিতে রয়েছে নানা জাতের দেশী বিদেশী ফুলের গাছ। এর মধ্যে গোলাপ, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, লিলি, রজনীগন্ধা, কসমস, সূর্যমূখি এবং গাঁদা ফুল গাছ উল্লেখযোগ্য। এই ফুলের বাগানটিতে ফুলের গাছ ছাড়াও রয়েছে অনেক রকমের ফলজ ও কাঠের বৃক্ষ।


আম বাগান:

পিকনিক কর্নারে রয়েছে বিশাল আম বাগান। এ বাগানে আছে অনেকগুলো বিশ্রাম বেঞ্চি। বাগানটি বড়ই চমকৎকার লাগে। ছায়া বৃক্ষের মত সারাদিন ছায়া দিয়ে যায় দর্শনার্থীদের। এখানে বসে প্রিয়জনের সাথে একান্ত নিরিবিলি গল্প করা যায়। বাগানে যদি বসন্ত থাকে তাহলে কোকিলও ডাকে। কোকিলের ডাক শুনে মন জুড়িয়ে যাবে।


গাছপালা:

নির্দিষ্ট ফলের বাগান ছাড়াও এই চত্তরে রয়েছে বহু জাতের দেশী বিদেশী কাঠ ও ফলজ বৃক্ষের গাছ - আম, কাঠাল, লিচু, বেল, নারকেল, সুপারী, মেহগনি সহ বহুবিধ গাছপালা। গাছের নিচে রয়েছে বিশেষ ধরনের ঘাষ। এমন ঘাসের বিছানায় বসে থাকতে ইচ্ছা হবে অনেক্ষণ। মোট কথা বহু রকম গাছ পালা ঘাসবনে ঢাকা জনতা পিকনিক কর্নার বিনোদনের এক শ্রেষ্ঠ প্রান্তর।


দর্শনার্থীদের সুবিধার বিষয়সমুহ

সেমিনার রুম ও রেস্ট হাউজ:

জরুরি সভা, মিটিংসহ অফিসিয়াল নানান ধরনের কনফারেন্স এই স্পটটিতে সেরে নিতে পারেন। এখানে আছে এক্সিকিউটিভ মিটিং-এর জন্য ১টি কনফারেন্স রুম, পিকনিকের ফাঁকে জিরিয়ে নিতে ১টি ভিআইপি রেস্ট রুম।


টয়লেট:

দর্শনার্থীদের ব্যবহারের জন্য স্পটে পুরুষ ও মহিলাদের জন্য পৃথক পৃথক টয়লেট রয়েছে। এ সমস্ত টয়লেটে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা আছে। এছাড়া বথরুমগুলো সবসময় পরিচ্ছন্ন রাখা হয়।


খাবার পানি:

আগত পিকনিক পার্টি যাতে বিশুদ্ধ খাবার পানি সংকটে না পড়েন সে লক্ষ্যে স্পটে অনেকগুলো গভীর ও অগভীর নলকুপ বসানো আছে। কর্তৃপক্ষ সম্মানিত দর্শনার্থীদের আর্সেনিকমুক্ত বিশুদ্ধ খাবার পানি পাবার ব্যাপারে যাবতীয় ব্যবস্থা নিতে আন্তরিক।


বিশ্রাম বেঞ্চি:

জনতা পিকনিক কর্নারের বিশাল চত্তর ঘুরে দর্শনার্থীদের ক্লান্ত হতেই হবে। তখন প্রয়োজন বিশ্রামের। আর তাই বিশ্রামের জন্য রয়েছে বিশ্রাম বেঞ্চি। বিশেষ ভাবে নির্মিত এ বেঞ্চিতে বসে একান্ত নিরিবিলি বন্ধুর সঙ্গে গল্প করা যায় বহুক্ষণ। এ সমস্ত বিশ্রাম বেঞ্চির চারিপাশে মন মাতানো ফুলের গন্ধ এবং পাখীর ডাক।


প্রশাসানিক দপ্তর:

জনতা পিকনিক কর্নারের গেট সংলগ্ন প্রশাসনিক ভবনে রয়েছে পরিচালনা কর্মকর্তাদের দপ্তর। এখানে ম্যানেজার, অফিস সহকারিসহ অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারিদের দপ্তর ও স্টোর রুম রয়েছে। সেখানে গিয়ে দর্শনার্থী বুকিং প্লেস নির্দিষ্টকরণসহ কিছু জানতে চাইলে প্রত্যেকে সানন্দে জানিয়ে দেবেন বিভিন্ন তথ্য।


মন্তব্য রেজিস্টার:

প্রশাসনিক দপ্তরে রাখা আছে একটি মন্তব্য রেজিস্ট্রার। দর্শনার্থী এই রেজিস্ট্রারে সুন্দর মতামত লিখে রাখতে পারেন। জনতা কর্তৃপক্ষ প্রত্যেকদিন মন্তব্য রেজিস্টার পড়ে থাকেন। সুন্দর মতামত প্রদানের জন্য অনেককে বিভিন্ন সময়ে পত্রের মাধ্যমে ধন্যবাদ জানানো হয়। দর্শনার্থীদের মতামতকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে অনুরূপ ব্যবস্থা নেয়া হয়।


জনতা পিকনিক কর্নার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে / বুকিং দিতে যোগাযোগ করুন :

১. মোঃ জয়নাল আবেদীন
প্রশাসনিক কর্মকর্তা
জনতা আদর্শ গ্রাম উন্নয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতি লিঃ
থুকড়া, ডুমুরিয়া, খুলনা
দুরালাপনীঃ ০১৯৩৮-১০৭৬৬১, ০১৭৩৪৯৩২৭১৩


২. শেখ মোঃ আব্দুল হাই
ম্যানেজার
দুরালাপণীঃ ০১৯৫২৪১২৪৮১